আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার টিকে থাকা নির্ভর করছে “এক পরিবার” হিসেবে পরস্পরকে গ্রহণ করার মানসিকতার ওপর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই দেশের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে, যা মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার শক্তি তার বৈচিত্র্যে, আর সেই বৈচিত্র্যকে ধারণ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে একে অপরকে একটি বৃহৎ পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার সক্ষমতার ওপর।” বিভিন্ন প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সময় এই সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনা নববর্ষ, পঙ্গল এবং চলমান রমজানের কথা তুলে ধরেন। আনোয়ার জানান, রমজান মাসে রোজাদার মুসলমানদের কথা বিবেচনা করে একটি চীনা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান আগেভাগে আয়োজন করা হয়েছিল—যা তিনি অসাধারণ সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে অনেক অমুসলিম অতিথিও সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে রোজা না রেখেও ইফতারে অংশ নেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান-এর প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, এখানে উপস্থিত অনেকেই রোজা রাখেন না। কিন্তু অমুসলিম বন্ধুরা ক্ষুধার ভান করে আমাদের সঙ্গে ইফতারে যোগ দেন।” তিনি এটিকে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি থাইপূসাম উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার শুরুর আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল থেকে অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
দেশে বিভাজন সৃষ্টিকারী কিছু কণ্ঠস্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও বিদেশি দূতদের আশ্বস্ত করে আনোয়ার বলেন, বাস্তবে মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইবান ও কাদাজানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই বসবাস করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা অটুট রাখা মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাহফিলে কূটনীতিকদের সঙ্গে পরিচয়পর্বে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা হয় হাইকমিশনারের। এ সময় অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা দিয়ে এভাবেই বহুজাতিক মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
