আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ার হাই কোর্ট বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি ও দাতুক সেরি আমিনুল ইসলাম আবদুল নরের করা গ্যাগ অর্ডারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক মাইগ্র্যান্ট কর্মী বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়া বন্ধে তারা যে আবেদন করেছিলেন, আদালত তা নাকচ করে দেন।
বিচারপতি রোসলান মাত নর একতরফা আবেদনের শুনানিতে বলেন, মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য যে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়, এ ক্ষেত্রে তা পূরণ হয়নি।
এর আগে বেস্টিনেট ও আমিনুল ১০ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে ব্লুমবার্গ, ব্লুমবার্গ (মালয়েশিয়া) এসডিএন বিএইচডি, দি এজ কমিউনিকেশনস এসডিএন বিএইচডি, মকিনি ডটকম এসডিএন বিএইচডি, হারাপান মিডিয়া এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও আইনজীবী-অ্যাকটিভিস্ট লতিফা কোয়া, সাবেক মন্ত্রী রাফিজি রামলি এবং কর্মী ইশওয়ার্দি মর্নি।
২৩ ফেব্রুয়ারি নিউ স্ট্রীট টাইমস এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার সূত্রপাত ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে, যার শিরোনাম ছিল “প্রতিটি ব্যক্তি ভাগ পায়, আর মাইগ্র্যান্ট কর্মীরা মূল্য দেয়।” ওই প্রতিবেদনে বেস্টিনেট ও আমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর সিন্ডিকেট ফি আরোপ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শোষণের অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনে উপপ্রধানমন্ত্রীর নামও উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষ দাবি করে, উল্লিখিত বক্তব্যগুলো মিথ্যা, মানহানিকর এবং তাদের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা সাধারণ, বর্ধিত ও দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পাশাপাশি প্রথম বিবাদীর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ রিঙ্গিত বিশেষ ক্ষতিপূরণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনও জানান।
লিখিত রায়ে বিচারপতি রোসলান বলেন, মানহানির মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়, কারণ এখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত।
তিনি উল্লেখ করেন, “শুধুমাত্র স্পষ্ট ও নির্দ্বিধায় প্রমাণিত ক্ষেত্রে, যেখানে অভিযোগিত মানহানি একেবারেই অসত্য এবং কোনো গ্রহণযোগ্য প্রতিরক্ষা—যেমন সত্যতা, বিশেষাধিকার বা ন্যায্য মন্তব্য—প্রযোজ্য নয়, সেখানেই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।”
বিচারপতি আরও বলেন, অভিযোগিত বক্তব্যগুলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট—বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। এ ধরনের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা বিবাদীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ হবে।
তবে আদালত সতর্ক করে বলেন, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনসম্মতভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া বা সন্দেহজনক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন, অন্যদিকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
