লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, গণভোটের প্রস্তাব দেওয়ার পরও দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। তিনি বলেন, এতে দলটি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে এক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস হলেও বাস্তবে তাদের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন থাকার পরও তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। নির্দিষ্ট ব্যক্তি না থাকলেও এর প্রভাব থেকে যায় এবং এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।” জনগণের রায় অগ্রাহ্য করাকে তিনি ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না। অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও একসময় মজলুম ছিলেন। গোটা জাতিই মজলুম ছিল।” এ সময় তিনি সকলকে জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে জনগণের ভোটাধিকার খর্ব হচ্ছে এবং নির্বাচনে পরাজিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো অনৈতিক।
শিক্ষা খাতে ‘হোম ক্লাস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে শিশুদের ডিভাইস নির্ভরতা বাড়বে এবং মেধা বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে, তবে তা হবে নিয়মতান্ত্রিক এবং ইস্পাত কঠিন।”
