মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ইস্যুতে পোপ ও ট্রাম্পের তীব্র মতবিরোধ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রথম মার্কিন পন্টিফ Pope Leo এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর মধ্যে প্রকাশ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে উভয়ের বক্তব্যে এই বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

৫ এপ্রিল, ইস্টার উপলক্ষে প্রথম আশীর্বাদ প্রদানকালে পোপ লিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, “যাদের হাতে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আছে, তারা যেন শান্তির পথ বেছে নেয়।”

এরপর ৭ এপ্রিল, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে, তাহলে “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পোপ লিও সাংবাদিকদের বলেন, “আজ ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

১১ এপ্রিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলাকালে পোপ আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান “যুদ্ধের উন্মাদনা বন্ধ” করতে।

তবে ১২ এপ্রিল ট্রাম্প পোপের সমালোচনা করে বলেন, তিনি যেন “একজন মহান পোপ হওয়ার দিকে মনোযোগ দেন, রাজনীতিবিদ হওয়ার নয়।” একই সঙ্গে তিনি পোপকে “অপরাধ বিষয়ে দুর্বল” এবং “চরম বামপন্থীদের তোষণকারী” বলেও অভিযোগ করেন। দীর্ঘ এক পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমি হোয়াইট হাউসে না থাকলে, লিও ভ্যাটিকানেও থাকতেন না।”

সবশেষে ১৩ এপ্রিল পোপ লিও সাংবাদিকদের জানান, তিনি “ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না” এবং গসপেলের বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে তিনি প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ শুধু ব্যক্তিগত মতবিরোধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভ্যাটিকানের নৈতিক অবস্থানের মধ্যকার গভীর বিভাজনকেই তুলে ধরছে।