যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer এমন একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সিঙ্গেল মার্কেটের নিয়ম সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে ব্রিটিশ সরকার—যেখানে সংসদের পূর্ণাঙ্গ ভোটের প্রয়োজন হবে না। প্রস্তাবটি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত বিলটির লক্ষ্য হলো খাদ্যমানসহ বিভিন্ন খাতে ইউরোপীয় নিয়মের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। লেবার পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ব্যবসার খরচ কমাবে এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা হ্রাস করবে, যা বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও European Union বিভিন্ন বিষয়ে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্য মানদণ্ডও রয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়নে যে আইন প্রণয়ন হবে, তাতে ‘ডাইনামিক অ্যালাইনমেন্ট’ নামে নতুন ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই ব্যবস্থার আওতায় ব্রাসেলস নতুন কোনো নিয়ম অনুমোদন করলে তা যুক্তরাজ্যে সীমিত সংসদীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে কার্যকর করা যাবে। এসব নিয়ম সাধারণত সেকেন্ডারি লেজিসলেশনের মাধ্যমে পাস হবে, যা সংশোধনযোগ্য নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি অনুমোদিত হয়।
সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিলটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংসদে পাস হবে এবং যেকোনো নতুন ইইউ চুক্তি সংসদীয় পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন, এর ফলে বছরে প্রায় ৫.১ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রিংক’ বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য জটিলতা কমবে।
তবে বিরোধীরা এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী Andrew Griffith বলেন, এতে সংসদ কার্যত দর্শকে পরিণত হবে, আর নীতিনির্ধারণ করবে ব্রাসেলস।
অন্যদিকে, Nigel Farage এই উদ্যোগকে “ইইউ নিয়ন্ত্রণে ফিরে যাওয়ার গোপন চেষ্টা” বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিরোধিতার ঘোষণা দিয়েছেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি Munira Wilson বলেন, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রয়োজন হলেও সংসদীয় গণতন্ত্রও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে যুক্তরাজ্য ও European Union মৎস্য, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। চলতি বছর আরেকটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে আগের চুক্তিগুলোর পাশাপাশি আরও উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার।
