যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে আসছে। স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের উত্থান এবং লেবারের খারাপ ফলাফলের পর দলটির একাধিক এমপি স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এক লেবার এমপি বলেন, “স্বস্তির বিষয় হলো মানুষ আসলে লেবারকে ঘৃণা করে না… তারা ঘৃণা করে স্টারমারকে।”
সাধারণত প্রধানমন্ত্রীবিরোধী হিসেবে পরিচিত নন এমন এক এমপির এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যে এলাকায় রিফর্ম ইউকে বড় জয় পেয়েছে, সেখানকার ভোটারদের মনোভাব নিয়েই তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরেক লেবার এমপি জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের অনেকেই সরাসরি স্টারমারের নাম উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে দলটির বামপন্থী একজন এমপি বিবিসিকে বলেন, “ইয়র্কশায়ারের ভোটারদের বার্তা পরিষ্কার — কিয়ারের জন্য এখন পর্দা নামার সময়।”
দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও স্বীকার করেছেন যে ওয়েলসে লেবারের দুর্বল অবস্থানের জন্য অনেকেই স্টারমারকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, “ওয়েলসজুড়ে সবাই বলছে, এই পরিস্থিতির জন্য স্টারমারই দায়ী।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়েলসের সিনেড বা পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার এবার ক্ষমতা হারাতে পারে এবং তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক ফলাফল ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা স্টারমারের নেতৃত্বকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় ভেতরে এই ধরনের প্রকাশ্য অসন্তোষ লেবারের জন্য বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে।
