ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের সেই দুই চরম বিপর্যয়: যখন ৭ বা তার বেশি গোল হজম করেছিল

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলের নাম ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলটি তাদের নান্দনিক ও আক্রমণাত্মক খেলা এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। যেকোনো দলের জন্যই ব্রাজিলকে হারানো সবসময়ই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন দুটি কালো অধ্যায় রয়েছে, যেখানে রক্ষণভাগ ভেঙে পড়েছিল সেলেসাওদের। ইতিহাসে মাত্র দুটি দল ব্রাজিলের জালে এক ম্যাচে ৭ বা তার বেশি গোল জড়াতে পেরেছিল।

১৯৩৪: যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুঃস্বপ্ন

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বড় ধাক্কাটি এসেছিল প্রায় শতবর্ষ আগে, ১৯৩৪ সালের ৩ জুন। বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন শক্তিশালী যুগোস্লাভিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য দারুণ ছিল; খেলার মাত্র ৮ম মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় তারা।

তবে শুরুর সেই আনন্দ ম্যাচ শেষে রূপ নেয় চরম দুঃস্বপ্নে। গোল খাওয়ার পর ঘরের মাঠে রুখে দাঁড়ায় যুগোস্লাভিয়া। একের পর এক আক্রমণ সায় দিয়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে দেয় তারা। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে শেষ পর্যন্ত ৮-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় যুগোস্লাভিয়া। ফুটবল ইতিহাসে সেটিই ছিল ব্রাজিলের প্রথম এক ম্যাচে ৭টির বেশি গোল হজম করার রেকর্ড।

২০১৪: ঘরের মাঠে মিনেইরাজো ট্র্যাজেডি

যুগোস্লাভিয়ার সেই বিপর্যয়ের পর কেটে যায় দীর্ঘ আট দশক। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে ব্রাজিল নিজেদের ধরে রাখলেও ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়ের মুখোমুখি হয় তারা। বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ছিল জার্মানি।

ম্যাচটি শুরুর পর থেকে যা ঘটেছিল, তা বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যাচের প্রথম ২৯ মিনিটের মধ্যেই জার্মানি ৫-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ থেকে ব্রাজিলকে ছিটকে দেয়। জার্মান আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ড জ্বলজ্বল করছিল জার্মানি ৭, ব্রাজিল ১। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেছিলেন অস্কার। বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাশাপাশি নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেও এটি স্বাগতিক ব্রাজিলের অন্যতম বড় ও লজ্জাজনক পরাজয় হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।