আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ টানা দ্বিতীয় রাতেও সহিংস রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে। সোমবারের একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা বুধবারও অব্যাহত থাকে। এ সময় বেলফাস্টের উপকণ্ঠ নিউটাউনাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের যানবাহন লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। নিউটাউনাবির সংঘর্ষকে চলমান সহিংসতার সবচেয়ে তীব্র ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড (পিএসএনআই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ওই রাতে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বাড়িঘর, গাড়ি এবং একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এতে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাগুলো বিশেষভাবে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতবাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সহিংসতায় কয়েক ডজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকারি সূত্র।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশের ঘটনায় অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মানুষের পরিচয়, জাতিগত পটভূমি বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার রাতে সংঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক সুদানীয় নাগরিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
ছুরিকাঘাতে আহত স্টিফেন ওগিলভি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এক বিবৃতিতে তার পরিবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সামাজিক বিভাজন ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সালে ইউরোপ হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তার যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি ছিল। এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি এলাকায় স্কুলও আগেভাগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
