ইন্টারপোলের সহায়তায় দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বর্তমানে তিনি দেশটির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলার তদন্ত চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থায় তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে পর্তুগালসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের অনুমতিপত্রও ছিল তার কাছে। দেশটিতে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে প্রবেশের অভিযোগেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক ই-মেইলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুদকের মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব অনুমোদনের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
