অভিষেকেই মহাপরীক্ষা, জার্মানির মুখোমুখি কুরাসাও, বড় জয়ের লক্ষ্য জার্মানির

ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। টেক্সাসের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি শুরু হবে রোববার রাত ১১টায়। ফুটবল ইতিহাসে দুই দলের এটিই প্রথম মুখোমুখি লড়াই।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল জার্মানির বিপক্ষে মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার কুরাসাওয়ের এই ম্যাচকে অনেকেই দেখছেন ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর প্রতীকী লড়াই হিসেবে। কাগজে-কলমে বিশাল ব্যবধান থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমকের গল্প লিখতেই মাঠে নামছে ক্যারিবীয় প্রতিনিধিরা।

গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে নতুন মিশনে নেমেছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। এবারের বিশ্বকাপে আসার আগে টানা নয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর জার্মানি। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির বার্তাও দিয়েছে তারা।

দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইনজুরিতে থাকলেও জার্মান আক্রমণের মূল ভরসা তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান উইর্টজ। বিশেষ করে মুসিয়ালার গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতা কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষার নাম হতে যাচ্ছে।

তবে ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা কুরাসাওকে মোটেও অবমূল্যায়ন করছি না। বিশ্বমঞ্চে প্রতিটি দলই বিপজ্জনক। আমাদের শতভাগ মনোযোগ নিয়েই মাঠে নামতে হবে।”

অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে অরুবাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখছে তারা।

পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে পারবে কুরাসাও। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিআক্রমণ গড়ে তোলা এবং সেট-পিসে তার দক্ষতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে দলের সাফল্য।

ম্যাচের আগে কোচ ডিক অ্যাডভোকেট বলেন, “জার্মানি অবশ্যই ফেভারিট। তবে ফুটবলে অঘটন অসম্ভব নয়। আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডার ওবিস্পো। জার্মানির আক্রমণের মূল অস্ত্র মুসিয়ালাকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, সেটিই হতে পারে ম্যাচের অন্যতম বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি বাকুনার নেতৃত্বে সেট-পিস এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই সুযোগ খুঁজবে কুরাসাও।

গ্রুপের অন্য দুই দল ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট হওয়ায় জার্মানি চাইবে বড় ব্যবধানের জয় দিয়ে নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যেতে। আর কুরাসাওয়ের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই সাহসী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দেওয়া।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন একদিকে জার্মান শক্তির প্রদর্শন আর অন্যদিকে কুরাসাওয়ের রূপকথা রচনার সম্ভাবনা দেখার জন্য।