শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আনছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত কারণে মোবাইল ফোন জমা দিতে হয়েছিল। সাময়িক সময়ের জন্য ফোন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা হয়তো দেশের ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অনেক কিশোর-কিশোরীর অনুভূতির সঙ্গে কিছুটা মিল খুঁজে দেয়, যারা নিজেদের অনলাইন ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।

স্টারমার স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং এটি অনেকাংশে অস্ট্রেলিয়ার অনুসৃত মডেল অনুসরণ করবে। তবে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনাকে ‘অস্ট্রেলিয়া প্লাস’ বলা হচ্ছে, কারণ এতে অতিরিক্ত কিছু বিধিনিষেধও যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এর মধ্যে রাতের নির্দিষ্ট সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা ‘নাইট-টাইম কারফিউ’ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

সরকারের দাবি, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি এককভাবে সব সমস্যার সমাধান নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

নতুন নীতিমালার বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।