২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে ইরানি দলের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভিসা শর্ত অনুযায়ী, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই দেশটি ত্যাগ করতে হবে। ফলে অন্যান্য দলের তুলনায় ইরানের প্রস্তুতি, অনুশীলন এবং পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করার পর ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে তার দলই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। তিনি মনে করেন, এই বিধিনিষেধ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ন্যায়সঙ্গত পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এক বিবৃতিতে ফুটবল ফেডারেশন অব দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান (এফএফআইআরআই) জানায়, তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফেডারেশনের মতে, এমন পরিস্থিতি দলের কৌশলগত প্রস্তুতি, অনুশীলন সূচি এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং ফিফার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবে। ফেডারেশন আশা করছে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব দেশের জন্য সমান ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে কোনো দলের ওপর বিশেষ ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ হলে তা প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা কী ধরনের অবস্থান গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এই ইস্যুর সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।
