প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাইরাল অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক, এআই কারসাজির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে এক নারীর কথিত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চললেও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রচারিত ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ ভুয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

তবে ফ্যাক্টচেকভিত্তিক পোর্টাল দ্য ডিসেন্ট তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা সংগৃহীত ছবি ও ভিডিও একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করলেও সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি, এমন কোনো প্রমাণ পায়নি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে কয়েকটি ছবি, একটি শব্দহীন ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি, এআই ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

‘ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’

ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তার ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালানো হতে পারে। তার বক্তব্যের সমর্থনে দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিডিওটি ভুয়া এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য

প্রতিমন্ত্রীর দাবি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর গত ২৯ জুলাই দ্য ডিসেন্ট একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পঞ্চগড় ও ঢাকার একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে এক নারীর কথিত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ২০ সেকেন্ডের একটি শব্দহীন ভিডিও, পাঁচটি ছবি এবং কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগৃহীত ছবি ও ভিডিওগুলোর রেজুলেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্টের তুলনায় বেশি ছিল। এসব ছবি ও ভিডিও একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হলেও সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পোর্টালটি।

তবে এআই শনাক্তকরণ টুলে কোনো কনটেন্টকে কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে শনাক্ত না হওয়াকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতামত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মোবাইল নম্বর ও ছবির সূত্র ধরে অনুসন্ধান

দ্য ডিসেন্ট জানায়, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশটে শাড়ি পরা এক নারীর ছবি এবং একটি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দেখা যায়। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার একটি অ্যাপের মাধ্যমে নম্বরটির সঙ্গে যুক্ত বিকাশ পারসোনাল অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করে একটি অমুসলিম নারীর নাম পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ওই নারীর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায়, তার বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। একই গ্রাম প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদেরও গ্রামের বাড়ি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের পর একজন নারী কল রিসিভ করেন এবং নিজের নাম জানান। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, তার দেওয়া নামটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।

প্রতিবেদক ওই নারীকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে তার মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে এবং সেখানে শাড়ি পরা এক নারীর ছবি দেখা যাচ্ছে। যাচাইয়ের জন্য ছবিটি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তিনি ছবিটি নিজের বলে স্বীকার করেন। তবে তার ছবি ওই কথোপকথনে কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

ভাইরাল ছবি, ভিডিও ও স্ক্রিনশট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে তিনি চেনেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, “একজন এমপিকে চিনবো না কেন।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নারীর এক প্রতিবেশী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দাবি করেছেন যে ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

‘FORHAD HOSSAIN AZAD’ নাম দেখিয়ে প্রতিবেদককে ফোন

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাত ১০টা ২ মিনিটে প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ০১৭০৭ সিরিজের একটি বাংলাদেশি নম্বর থেকে কল আসে। কলের সময় নম্বরটির পরিচয় হিসেবে ‘FORHAD HOSSAIN AZAD’ নামটি প্রদর্শিত হয়।

প্রতিবেদকের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না। তিনি যে ছবি ও ভিডিও যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে যোগাযোগের আগে অন্য কারও সঙ্গে আলোচনা করেননি।

প্রতিবেদক কলটি তখন রিসিভ না করে পরদিন সকালে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কল রিসিভ না হওয়ায় হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠানোর পর ওই নম্বর থেকে পুনরায় কল আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কল রিসিভ করে জানতে চান, নম্বরটি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের কি না। জবাবে অপর প্রান্তের ব্যক্তি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। আগের রাতের কলের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, “আসেন, আমার দপ্তরে আসেন, চা খাই।”

এরপর সংযোগ সমস্যার কারণে কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কল কেটে দেওয়া হয়।

মারিয়া সরকার এলিনের বক্তব্য

এদিকে মারিয়া সরকার এলিন নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজেকে উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে চালানো প্রচারণাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ছবি তোলার সুযোগ হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে একটি কফিশপে ধ্রুবতারা সংগঠনের কার্যক্রম উপলক্ষে একই টেবিলে বসে তোলা একটি আনুষ্ঠানিক ও পেশাগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, কোনো অনুষ্ঠান, সভা বা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কিংবা সৌজন্য ছবি তোলাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে কারও চরিত্রহনন ও মানহানি করা অনৈতিক এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পেজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গ্রামে নীরবতা, কথা বলতে অনীহা

ভাইরাল ভিডিও এবং দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে যে নারীর সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে, তার বিষয়ে তথ্য জানতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি শুনেছেন এবং কেউ কেউ ভিডিওটি দেখেছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। অনেকেই নাম প্রকাশ করে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির ছাপ দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছবি এআই ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে এবং একটি রাজনৈতিক পক্ষের সংশ্লিষ্ট পেজ থেকে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগে পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা ও পৌর বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বুধবার রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আলম মামুন রনিক। এ সময় পৌর বিএনপির সদস্য ও পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইউনুস শেখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে তার ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।

দাবি পূরণ না হলে দলীয়ভাবে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, একটি মহল বিভিন্নভাবে প্রতিমন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে এবং বিএনপির বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। পঞ্চগড় জেলা শহরেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

এ ছাড়া বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে

ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে একদিকে প্রতিমন্ত্রী এবং তার সমর্থকেরা এটিকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা উচ্চ রেজুলেশনের ছবি ও ভিডিও একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করেও কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও স্থান এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ও চূড়ান্ত ফরেনসিক যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।