গাজা শান্তি আলোচনায় বড় অগ্রগতির দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

গাজা শান্তি আলোচনায় বড় অগ্রগতির দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের; তবে চুক্তির বিস্তারিত ও বাস্তবায়ন নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর “পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ” নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তাঁর গঠিত বোর্ড অব পিস। তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তাঁর দাবি, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে এবং নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে গাজা পরিচালনার পথ তৈরি হবে।

তবে ঘোষণার পরপরই হামাস বা ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে সমঝোতার শর্ত, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং উভয় পক্ষের চূড়ান্ত সম্মতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা এই উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কয়েক মাসের আলোচনার পর হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার আগে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজার পূর্ণ সামরিকীকরণমুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েলের সব দাবি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, হামাসের সামরিক কাঠামো ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।

মিসর শুক্রবার জানিয়েছে, হামাস ধাপে ধাপে এবং নির্ধারিত ক্রম অনুসরণ করে তাদের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। ওই কমিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মিসরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার শুরু গাজায় ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা বা এনসিএজি’র প্রবেশ এবং একটি বহুজাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তবে এই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

দুই বছর ধরে চলা তীব্র সংঘাতের পর গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ট্রাম্প গাজার নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে একটি বহুধাপের শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

তবে সর্বশেষ ঘোষণাকে ঘিরে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাঠামো অনুমোদন করেছে কি না, অস্ত্র সমর্পণের পরিধি কী হবে এবং ইসরায়েল কোন শর্তে সেনা প্রত্যাহার করবে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

Source: The ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস