সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিক্ষা, মেন্টরশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নে নতুন বিনিয়োগ
লন্ডনকে শিশু ও কিশোরদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ এবং বসবাসের উপযোগী শহরে পরিণত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। তিনি বলেছেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কিশোর অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে শুধু এ পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, খেলাধুলা, শিক্ষা, মেন্টরশিপ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও বাড়াতে হবে।
টটেনহ্যাম হটস্পারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাদিক খান বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক তরুণ অপরাধী চক্রের শোষণ, গ্যাং কার্যক্রম ও সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়ে। এ সময় তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে লন্ডন সিটি হল অতিরিক্ত ১৫ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করছে।
এই অর্থ লন্ডন ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট (ভিআরইউ), প্রিমিয়ার লিগ ফাউন্ডেশন এবং লন্ডনের ১১টি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের দাতব্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কর্মসূচির আওতায় শত শত ফুটবল সেশন, বিভিন্ন খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক কার্যক্রম, গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
মেয়র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এটি কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র সমাধান নয়। তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, অনলাইনে বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর তথ্য শনাক্ত করা, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং নিজেদের সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু খুব অল্প বয়সেই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অ্যালগরিদমের প্রভাবে পড়ে। তাই অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তাদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মতো ইতিবাচক বিকল্প তৈরি করা জরুরি।
সাদিক খান জানান, তরুণদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার তরুণকে মেন্টরশিপ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন ১৫ লাখ পাউন্ডের তহবিলের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা তরুণদের, যাদের সাধারণভাবে ‘নিট’ বা NEET (Not in Education, Employment or Training) হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন লন্ডনের মেয়র।
তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের ঘোষণার ফলে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত কিছু ক্ষমতা স্থানীয় মেয়রদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর ফলে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
প্রিমিয়ার লিগ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স হোয়াইট বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়। এটি তরুণদের অপরাধের ঝুঁকি থেকে দূরে রেখে নিরাপদ পরিবেশ, ইতিবাচক রোল মডেল এবং জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
লন্ডন সিটি হলের আশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খেলাধুলা, শিক্ষা, মেন্টরশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নকে সমন্বিত করে নেওয়া এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ ও শোষণের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে লন্ডন শিশু ও তরুণদের জন্য আরও নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।
সূত্র: মাই লন্ডন নিউজ
