যুক্তরাজ্যের বেলমার্শ কারাগারে মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত উরফান শরিফের ওপর হামলার ঘটনায় দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন ৪৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্যানসম এবং ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম ওয়াটসন। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (CPS) জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি লন্ডনের বেলমার্শ কারাগারে উরফান শরিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার মুখে কেটে যাওয়ার মতো আঘাত লাগে এবং পরে কারাগারেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত দুই বন্দিকে আগামী ২৬ আগস্ট ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে।
CPS লন্ডনের ডেপুটি চিফ ক্রাউন প্রসিকিউটর ড্যারেন স্ট্রিটার বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে প্রসিকিউটররা মামলাটি আদালতে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পেয়েছেন।
উরফান শরিফ, তার স্ত্রী বেইনাশ বাতুল এবং উরফানের ভাইপো ফয়সাল মালিক ১০ বছর বয়সী সারা শরিফের মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। সারাকে ২০২৩ সালের আগস্টে সারির ওয়াকিংয়ে পরিবারের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আদালতে প্রমাণিত হয়, মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে সারার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তাকে মারধর, পোড়ানো এবং মাথায় হুড পরিয়ে রাখাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। বিচারক জাস্টিস কাভানাগ এই নির্যাতনের মাত্রাকে ‘প্রায় অকল্পনীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
উরফান শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাকে অন্তত ৪০ বছর কারাগারে থাকতে হবে। বেইনাশ বাতুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ন্যূনতম ৩৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সারার মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার দায়ে ফয়সাল মালিককে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সারার মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন উরফান শরিফ, বেইনাশ বাতুল ও ফয়সাল মালিক সারার পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পালিয়ে যান। পরে তাদের সন্ধানে আন্তর্জাতিকভাবে তল্লাশি শুরু হয়। প্রায় চার সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এখন কারাগারে উরফান শরিফের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন স্যানসম ও ওয়াটসন।
