হংকংয়ের তাই পো ডিস্ট্রিক্টের ওয়াং ফুক কোর্ট সরকারি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৯ জন। ১৮ ঘণ্টা ধরে চলমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৮০০-র বেশি দমকল কর্মী।
বিবিসির বরাতে জানা গেছে, ওয়াং ফুক কোর্ট আঠারোতলা নয়, বরং আটটি ৩১ তলা বিশিষ্ট টাওয়ার ব্লকের একটি বৃহৎ আবাসিক কমপ্লেক্স। ২০২১ সালের সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানে এক হাজার ৯৮৪টি ফ্ল্যাটে মোট চার হাজার ৬০০ বাসিন্দা থাকার কথা।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিখোঁজদের মধ্যে অনেক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
আগুন লাগার সময় ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনগুলোর চারপাশে থাকা বাঁশের আচ্ছাদন এবং সংস্কারকাজে ব্যবহৃত পলিস্টাইরিন বোর্ডের কারণে অগ্নিশিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই টাওয়ারগুলোতে সংস্কার কাজ চলছিল, আর সে কারণে বাইরে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং দিয়ে ঘেরা ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একটি নির্মাণ কোম্পানির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ভবন সংস্কারের কাজে আগুন-সহায়ক উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। রাতভর উদ্ধার কার্যক্রমে একজন শিশু ও একজন প্রবীণ নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আগুন নেভানোর চেষ্টায় প্রাণ হারানো ৩৭ বছর বয়সী এক দমকল কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে হংকং সরকার, তাকে “নিবেদিত প্রাণ ও সাহসী” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
হংকংয়ের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ঘটনাটিকে লেভেল–ফাইভ শ্রেণির অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে—যা দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত ১৭ বছরে এত বড় অগ্নিকাণ্ড আর ঘটেনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আগুন নেভানোর কাজে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নিকটবর্তী ১৩টি স্কুলে আজকের ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আশ্রয় কেন্দ্রে শিক্ষাগত মনোবিজ্ঞানীদের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা ব্যুরো।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সংস্কার কাজে ব্যবহৃত পলিস্টাইরিন বোর্ড জানালা বন্ধ করে রাখায় আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।