বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। রাজধানীর ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেস ওয়ে, অর্থাৎ ৩০০ ফুট এলাকায় এ সংবর্ধনার জন্য নির্মিত মঞ্চের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ব্যানার, পতাকা, তোরণ ও আলোকসজ্জায় সাজানো পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
প্রায় দেড় যুগ পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাজকীয় সংবর্ধনা দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংবর্ধনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। স্লোগান, প্ল্যাকার্ড ও উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা এক উৎসবের রূপ নিয়েছে। অনেক নেতাকর্মী আগের রাত থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্চের শেষ মুহূর্তের কাজ ও সাজসজ্জা প্রায় শেষ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী আলামিন বলেন, “স্বৈরাচার পতনের পর এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত। ২৫ ডিসেম্বর শুধু বিএনপির নয়, সাধারণ মানুষেরও আনন্দের দিন। মানুষের চোখেমুখের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যায়—নেতৃত্ব ও জনগণ একসঙ্গে রয়েছে।”
তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতা মীর মোহাম্মদ খোকন বলেন, “নেতাকে স্বাগত জানাতে মানুষের আগমন এক জাতীয় উৎসবের মতো। আমরা পুরো আয়োজন সুন্দরভাবে শেষ করতে প্রস্তুত।”
ঢাকা মহানগর উত্তর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব মো. নাসির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “এই সমাবেশ প্রমাণ করবে—নেতার পেছনে জনগণ আছে। এত বছর পরও তার নামেই মানুষ রাস্তায় দাঁড়ায়, এটা সাধারণ ঘটনা নয়।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে যাত্রা করে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এরপর তিনি সড়কপথে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। যাওয়ার পথে ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
সংক্ষিপ্ত ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন এবং সেখান থেকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে অবস্থান করবেন।