মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের ভোট নিয়ে অভূতপূর্ব উৎসাহ, পোস্টাল ব্যালটে ভোটার নিবন্ধন ছাড়াল ৫২ হাজার

আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করেও এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে মোট ৫২ হাজার ১৭৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য সফলভাবে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কারখানা কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী—সব শ্রেণির প্রবাসীদের মধ্যেই নিবন্ধনে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নিবন্ধন কার্যক্রমকে সহজ ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা কর্মস্থল, আবাসিক এলাকা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রবাসীদের হাতে-কলমে নিবন্ধন সহায়তা প্রদান করছেন।

এ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাশ্রমে যুক্ত হয়েছেন মালয়েশিয়া বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন, জামায়াতে ইসলাম মালয়েশিয়া, সামাজিক সংগঠন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন (এমবিএফএ), জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া, বাংলা প্রেসক্লাব মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি বহু সচেতন প্রবাসীও এতে অংশ নিচ্ছেন, যা প্রবাসী ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় চালু হওয়া ‘হাইব্রিড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগকে করেছে সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী। এই ব্যবস্থার আওতায় বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে যোগ্য প্রবাসীরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো—ডিজিটাল নিবন্ধন ও ম্যানুয়াল ব্যালট পদ্ধতির সমন্বয়। এর ফলে শুধু প্রবাসীরাই নয়, সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাবন্দীরাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসীরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একাধিক প্রবাসীর ভাষায়, “দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও ভোট দেওয়ার সুযোগ আমাদের নাগরিক মর্যাদা আরও দৃঢ় করেছে।” তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের মতামতের বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

প্রবাসীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ ও উৎসাহ প্রমাণ করে—দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ ও আবেগ কখনোই ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর ও দৃঢ় হয়ে উঠছে।