স্টর্ম গোরেত্তি যুক্তরাজ্যের দিকে এগিয়ে আসায় দেশজুড়ে তুষারপাত ও বরফ জমার নতুন সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস। বুধবার প্রায় পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে হলুদ বরফ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তুষারপাতের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি আবহাওয়াবিদদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের প্রথম ঝড় হিসেবে নামকরণ করা স্টর্ম গোরেত্তির প্রভাবে সপ্তাহের শেষভাগে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে চলতি শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা রাত রেকর্ড করা হয়েছে। নরফোকের মারহামে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যজুড়ে শত শত স্কুল বন্ধ রাখা হয়। ওয়েলসে প্রায় ৩৮০টি, স্কটল্যান্ডে অন্তত ৩০০টি, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২০৩টি এবং ইংল্যান্ডে ২৩০টির বেশি স্কুল বন্ধ ছিল।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থাতেও। রেল চলাচলে ব্যাপক বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন নর্থ ইস্টার্ন রেলওয়ে (LNER) এডিনবরো ও অ্যাবারডিনের মধ্যে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং তাদের নেটওয়ার্কজুড়ে ‘বড় ধরনের বিঘ্ন’-এর কথা জানিয়েছে। উত্তর স্কটল্যান্ডে বহু ট্রেন বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যাবারডিন ও ইনভারনেসের মধ্যে স্নো-প্লাউ ব্যবহার করা হয়েছে।
ইউরোস্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পরিষেবায় তীব্র বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তে বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আমস্টারডামের সঙ্গে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায়ও ভারী তুষারপাত হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অ্যাম্বার সতর্কতা জারি ছিল, যা ভ্রমণ বিঘ্ন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জীবন ও সম্পদের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। পরিস্থিতির অবনতির কারণে অ্যাবারডিনশায়ার কাউন্সিল একটি ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করেছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আরও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সামনে রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মধ্য লন্ডন পর্যন্ত তুষারপাত লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।