সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও কেউ তাকে কিনতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ঘুষ নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে যাবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসন মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “১০ কোটি টাকা নয়, ১০ টাকা ঘুষ নিয়েছি এমন প্রমাণ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব। আমি ঘুষখোর নই। সারওয়ারকে ১০ হাজার কোটি দিয়েও কেউ কিনতে পারবে না।”
সিলেট-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হকের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো মনোনয়নপত্র বাতিল করেননি। আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত আদেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “আমি আমার বিবেক ও আইন অনুযায়ী কাজ করি। এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই। সবাই আমার কাছে সমান, সবার জন্য আইন সমান।”
তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ের পরদিন বেলা ২টা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছিল। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম এ মালিক এবং প্রবাসী গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান নাগরিকত্ব ত্যাগের কাগজপত্র জমা দেওয়ায় তাদের মনোনয়ন শর্তসাপেক্ষে বৈধ বিবেচনা করা হয়।
তবে অপর দ্বৈত নাগরিক এহতেশামুল হক কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে না পারায় তার মনোনয়ন বৈধ করার সুযোগ ছিল না বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “এখানে লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
সারওয়ার আলম আরও বলেন, লিখিত আদেশ প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি চাইলে উচ্চ আদালত বা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।