১৮০৭ সালের আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাস ক্রেতা ছিল ব্রিটিশ ক্রাউন

নতুন এক ঐতিহাসিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ১৮০৭ সালে দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রিটিশ ক্রাউনই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাস ক্রেতা। ইতিহাসবিদ ব্রুক নিউম্যানের লেখা দ্য ক্রাউন’স সাইলেন্স বইয়ে বলা হয়েছে, ওই সময় ব্রিটিশ রাজতন্ত্র সেনাবাহিনীর জন্য প্রায় ১৩ হাজার আফ্রিকান পুরুষকে দাস হিসেবে কিনেছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড।

বইটিতে উল্লেখ করা হয়, শত শত বছর ধরে ব্রিটিশ ক্রাউন এবং রাজকীয় নৌবাহিনী আফ্রিকা থেকে দাস বাণিজ্যকে শুধু সমর্থনই করেনি, বরং তা সম্প্রসারণ ও সুরক্ষার ভূমিকা পালন করেছে। এই গবেষণা গার্ডিয়ান পত্রিকার ২০২৩ সালের কস্ট অব দ্য ক্রাউন প্রতিবেদনের পরবর্তী ধাপ, যেখানে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সঙ্গে দাসপ্রথার গভীর ও গোপন সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছিল।

বাকিংহাম প্যালেস বইটি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, রাজপরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টি রাজা তৃতীয় চার্লস “গভীর গুরুত্বের সঙ্গে” বিবেচনা করছেন।

নিউম্যান জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি এই গবেষণার কাজ শুরু করেন। জ্যামাইকা নিয়ে পূর্ববর্তী এক গবেষণার সময় তিনি রাজকীয় গোপন চিঠিপত্রের সন্ধান পান, যেখানে জর্জ চতুর্থ হাইতির মতো দাস বিদ্রোহ জ্যামাইকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি রাজকীয় আর্কাইভ, নৌবাহিনী, ঔপনিবেশিক প্রশাসন এবং রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানির নথি পর্যালোচনা করেন।

বইয়ে আরও বলা হয়েছে, ১৮৩১ সাল পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে হাজার হাজার দাস সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউনের মালিকানায় ছিল। এমনকি দাস বাণিজ্য দমনে রাজকীয় নৌবাহিনী সক্রিয় থাকলেও, রাজা জর্জ চতুর্থ তখনো দাসদের শ্রম ও বিক্রি থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিলেন, যা সে সময় সরকারের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছিল।

নিউম্যানের গবেষণায় উঠে এসেছে, দাসপ্রথা বিলোপের পর নৌবাহিনী যেসব আফ্রিকানকে দাস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মুক্ত করেছিল, তাদের অনেককেই জোরপূর্বক শিক্ষানবিশ হিসেবে বা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। বইটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ইতিহাসে দাসপ্রথার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান