নিউজ রিপোর্ট: ঝড় ‘চন্দ্রা’র প্রভাবে যুক্তরাজ্যের বড় অংশজুড়ে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় নামকরণকৃত এই ঝড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, বাতিল হয়েছে ট্রেন, ফেরি ও ফ্লাইট চলাচল। কোথাও কোথাও বাতাসের বেগ ঘণ্টায় প্রায় ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ইংল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার বাড়িঘর। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে বাতাস, বৃষ্টি ও তুষারপাতের জন্য ইয়েলো সতর্কতা জারি রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে, রাজধানী বেলফাস্টসহ, বাতাসের জন্য অ্যাম্বার সতর্কতা কার্যকর রয়েছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে ঝড় ‘ইনগ্রিড’ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন এই ঝড় আঘাত হানল। ন্যাশনাল রেল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার পর্যন্ত ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে রেলযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যজুড়ে শত শত বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ইংল্যান্ডেই রয়েছে ৯৫টি। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায় আগেই ভেজা মাটির ওপর নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
ডেভন ও সামারসেটের দমকল বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তারা বন্যার পানিতে আটকে পড়া অন্তত ২৫টি যানবাহন থেকে মানুষ উদ্ধার করেছে। সামারসেটে প্রায় ৫০টি বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে সেখানে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিল নেতা বিল রেভান্স বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপকভাবে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানান।
ডেভন ও কর্নওয়ালের এমপি রিচার্ড ফোর্ড জানান, এই দুই অঞ্চলে অন্তত ২০টি বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদীর পানি আরও বাড়লে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্নওয়ালের লস্টউইথিয়েলে বসবাসকারী অলিভার কিম্বার জানান, তার বাড়ির পাশের লেন সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, পানি এত দ্রুত এবং এত বেশি ছিল যে কোথাও যাওয়ার জায়গা পায়নি, উল্টো ড্রেন দিয়ে পানি ফিরে আসছিল।
ভারী বৃষ্টির ফলে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কেটসব্রিজ, প্লাইমাউথের মাউন্টব্যাটেন এবং ডরসেটের হার্নসহ কয়েকটি এলাকায় জানুয়ারির একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ডরচেস্টারের আপার ফ্রম এলাকায় জীবনঝুঁকির সতর্কতা হিসেবে ‘সিভিয়ার ফ্লাড ওয়ার্নিং’ জারি করা হয়। ডেভনের অটারী সেন্ট মেরিতে আগে জারি করা একই ধরনের সতর্কতা পরে তুলে নেওয়া হলেও পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, সেখানে রিভার অটার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পানিস্তরে পৌঁছেছে।
নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা জ্যাকি ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, বর্তমানে নদীটি ভয়ংকর স্রোতে পরিণত হয়েছে, এমন দৃশ্য তিনি আগে কখনো দেখেননি।
বন্যা ও উপড়ে পড়া গাছের কারণে ডরসেট, সামারসেট ও পূর্ব ডেভনের একাধিক সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এক্সিটারসহ পূর্ব ও মধ্য ডেভনের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। ডেভন জুড়ে ৪০টিরও বেশি স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সূত্র বিবিসি
