ইংল্যান্ডে ২৪ বছরের সতর্কবার্তার পরও এনএইচএসে চিকিৎসা অবহেলা বন্ধ হয়নি, ক্ষতির অঙ্ক বছরে £৩.৬ বিলিয়ন

ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ চিকিৎসা অবহেলার কারণে রোগীদের ক্ষতি ও মৃত্যুর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে, অথচ গত ২৪ বছরে দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তার পরও সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ (DHSC) এবং এনএইচএস ইংল্যান্ডের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। কমিটির মতে, চিকিৎসা ভুলের কারণে ক্ষতিপূরণ ও আইনি ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে বছরে £৩.৬ বিলিয়নে পৌঁছেছে, তবুও সমস্যার মূল কারণ দূর করতে “কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ” নেওয়া হয়নি।

PAC জানায়, ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত চারটি আলাদা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। কমিটির চেয়ারম্যান জিওফ্রে ক্লিফটন-ব্রাউন বলেন, “দুই দশকের বেশি সময় ধরে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, তবুও সরকার বা এনএইচএস সমস্যার মূল কারণ নিয়ে কাজ করছে না, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”

প্রতিবেদনে মাতৃত্বকালীন সেবাকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে মোরক্যাম্ব বে, ইস্ট কেন্ট এবং শ্রুসবেরি ও টেলফোর্ড এলাকায় মাতৃত্বসেবা সংক্রান্ত বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। নটিংহ্যামে প্রসূতি সেবা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

গত বছর এনএইচএসের মাতৃত্বসেবা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পর স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং একটি জাতীয় পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন। এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভ্যালেরি অ্যামস।

PAC আরও জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল অবহেলার দায় বাবদ সরকারের আর্থিক দায় গত ২০ বছরে চারগুণ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই দায় দাঁড়িয়েছে রেকর্ড £৬০ বিলিয়নে। কমিটির ভাষ্য, এত বড় অঙ্কের দায় বাড়লেও এর পেছনের কারণ কমাতে দৃশ্যমান উদ্যোগের প্রমাণ সরকার দেখাতে পারেনি।

প্রতিবেদনে দ্রুত সংস্কার, জবাবদিহি বাড়ানো এবং রোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।