গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ২৭, ভাঙছে যুদ্ধবিরতি

নিউজ রিপোর্ট: গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় নারী ও শিশুও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হামাস পরিচালিত গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা।

সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপন করা একটি তাবুতে হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের সাতজন নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি পুলিশ স্টেশনেও হামলা হয়েছে।

প্যালেস্টিনীয়দের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, শুক্রবার হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় এর জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানায়, পূর্ব রাফাহ এলাকায় ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো থেকে বের হওয়া আটজনকে শনাক্ত করা হয়, যাদের তারা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আইডিএফ আরও জানায়, ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে যৌথ অভিযানে গাজার বিভিন্ন স্থানে চারজন কমান্ডারসহ একাধিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র সংরক্ষণাগার, অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র এবং মধ্য গাজার দুটি রকেট উৎক্ষেপণ স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এসব হামলা প্রমাণ করে ইসরায়েল সরকার গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ অব্যাহত রেখেছে।

গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, সেখানে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় তিন শিশু ও দুই নারী নিহত হয়েছেন। নিহত শিশুদের চাচা সামের আল-আতবাশ বলেন, যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও শিশুদের কী অপরাধ ছিল, এমন প্রশ্নই এখন তাদের তাড়া করছে।

গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং বিধ্বস্ত ভবনের দৃশ্য দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৭১ হাজার ৬৬০ জনের বেশি।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

যদিও ইসরায়েল অতীতে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্র স্বীকার করেছে যে গাজা যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, গাজায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্বাধীনভাবে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।