যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি এলো।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে খামেনি বলেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার তা শুধু সীমিত থাকবে না, এটি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ইরানের জনগণ ভীত হবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চলছে এবং তিনি আশা করছেন তা “গ্রহণযোগ্য” সমাধানে পৌঁছাবে। একই সুরে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও জানান, আলোচনার একটি কাঠামো ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।
তবে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের কারণে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে ইরান রোববার হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। অতীতে হামলার শিকার হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে নিজেদের বাহিনীর আশপাশে ইরানের যেকোনো “অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ” থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে, তা নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এ পরিস্থিতিতে শনিবার ইরানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দক্ষিণের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে একটি ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি গ্যাস লিকের কারণে ঘটেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, সেখানেও গ্যাস লিকের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে—পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
রোববারের বক্তব্যে খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং ব্যাংক ও মসজিদে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, “এই অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।”
