রমজান: পাপমুক্ত জীবনের প্রশিক্ষণের মাস

রমজান পুণ্য অর্জন ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সময়। এ মাসে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বেশি ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। রোজা পালন, তারাবিহ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা চলে সর্বস্তরে। তবে এসব ইবাদতের পাশাপাশি রোজার আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে রোজার মূল উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াসম্পন্ন হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)। তাকওয়ার সারকথা হলো অন্তরে সর্বদা আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতেও রোজা অবস্থায় গোনাহ বর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ রোজার দিবসে থাকলে সে যেন অশ্লীল ভাষায় কথা না বলে এবং ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়। কেউ যদি তার সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায়, তবে সে বলবে—আমি রোজাদার।’ (বুখারি, মুসলিম)।

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনুল কায়িম বলেন, সিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো আত্মাকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করা এবং তার শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, যাতে মানুষ তার প্রকৃত কল্যাণের পথে অগ্রসর হতে পারে।

রোজা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; এর সামাজিক দিকও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিজীবনে ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে আদায় করার পাশাপাশি সমাজে এমন আচরণ করা প্রয়োজন, যাতে কারও কষ্ট না হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে (মুসলিম)।

রমজান আমাদের গিবত-পরনিন্দা, হিংসা, মিথ্যা, অহংকার, দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ—সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। এ মাস কেবল সাময়িক সংযমের নয়; বরং সারা বছরের জন্য পাপমুক্ত, নৈতিক ও সংযমী জীবনযাপনের প্রশিক্ষণ। তাই রমজানের শিক্ষা ও চর্চা যদি বছরের বাকি সময়েও অব্যাহত রাখা যায়, তবেই রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

সংগ্রহ : অনলাইন থেকে