মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনসহ একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বেশির ভাগ হামলাই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার পরপরই কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত হিসেবে সাইরেন বাজতে শুরু করে। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানী কুয়েত সিটির দক্ষিণে একটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি বিস্ফোরণ ও আগুনের দৃশ্য দেখা গেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে তাদের লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দূতাবাস খালি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে এটিই দ্বিতীয়বারের মতো ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের জলসীমায় গিয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দুটি হোটেল এবং একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই হামলা-পাল্টা হামলার ধারা অব্যাহত থাকে, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
