রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।
বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে নদীর পানির নিচে থাকা বাসটি উদ্ধার করা হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একে একে মরদেহগুলো বের করেন। উদ্ধারকৃত লাশগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটির দরজা ভেঙে যায় এবং ভেতর থেকে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩) ছিলেন যাত্রীদের মধ্যে। এছাড়া খোকসা থেকে ওঠা দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী ও ছেলে ইসরাফিল (৩) ছিলেন, যাদের মধ্যে শিশুটি এখনও নিখোঁজ।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) একই বাসে ছিলেন। তাদের মধ্যে আয়েশা আক্তার ও শিশু আরশান এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ জন যাত্রীবাহী বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের তিন নম্বর পন্টুনে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
