যুদ্ধবিরতি চুক্তি: নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় দাবি করছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবির বেশিরভাগই মেনে নিয়েছেন। এই কারণেই চুক্তিটিকে ইরান ‘বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে চুক্তিকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছিল তেহরান, যা আলোচনায় তাদের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

ইরানের ১০ দফা দাবির প্রধান দিকগুলো:

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায় তেহরান।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও মোতায়েন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।

মিত্র গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

ইরান তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুতি

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ ফেরত

তেহরান সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদআন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সংশ্লিষ্ট নেতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ দাবি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান।

আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা

ইরান চায়, চুক্তির সব শর্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক রেজুলেশন হিসেবে পাস করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ তা লঙ্ঘন করতে না পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান নিজেকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবে এসব শর্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো সংশয় রয়েছে।