ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে ‘অনেক কাজ বাকি’: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে এখনো “অনেক কাজ বাকি” রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট Strait of Hormuz পুনরায় চালু করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বুধবার সৌদি আরবে পৌঁছে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে স্টারমার এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি চালু করা গেলে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

এই যুদ্ধবিরতি আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কঠোর হুঁশিয়ারির পর, যেখানে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধ না করলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য সরকার।

স্টারমার বলেন, যুদ্ধবিরতির ফলে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে তারা লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে।

স্টারমার সৌদি আরবের তাইফে অবস্থিত কিং ফাহদ এয়ার বেসে যুক্তরাজ্য ও সৌদি সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে, বিরোধী দলগুলোর নেতারাও যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। কনজারভেটিভ দলের James Cleverly এটিকে ইরানের জন্য “গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা Ed Davey যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, হরমুজ প্রণালী চালু না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের উপনেতা Richard Tice সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদী হওয়া গেলেও সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি