শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ পরীক্ষা করছে ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে পাঠানো অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিবেচনায় রয়েছে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “প্রত্যর্পণের অনুরোধটি চলমান বিচার বিভাগীয় ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে জয়সওয়াল জানান, ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিভিন্ন প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে একমত হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।

দিল্লি সফরের সময় খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান বলেন, “বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরেও সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।” তবে আলোচনার বিস্তারিত কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশত্যাগের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।