ইরান ইস্যুতে গোয়েন্দা তথ্য উপেক্ষার অভিযোগ, নতুন বিতর্কে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের National Counterterrorism Center-এর সাবেক পরিচালক Joe Kent দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিন্ন মূল্যায়ন ছিল যে তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Fox News–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট অভিযোগ করেন, Central Intelligence Agency-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই সতর্ক করেছিল যে, ইরানের ওপর হামলা হলে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz বন্ধ করে দিতে পারে।

কেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পেশাদার মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত একটি বিদেশি রাষ্ট্র Israel-এর প্রচারিত বয়ান ও রাজনৈতিক এজেন্ডাই প্রাধান্য পেয়েছে এবং সেটিই যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে দেশটির শাসনব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো উৎসাহিত হবে—গোয়েন্দাদের এমন পূর্বাভাসও উপেক্ষা করা হয়েছে। গত মার্চে নৈতিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার সময়ও কেন্ট লিখেছিলেন, Iran যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না; বরং ইসরাইল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

তবে কেন্টের এসব বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে White House। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র Davis Ingle ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কেন্টের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

তিনি দাবি করেন, ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদ পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রগুলোর একটি এবং তাদের পক্ষ থেকে আমেরিকানদের ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট Donald Trump ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, ট্রাম্প শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তাই ছিল প্রধান বিবেচনা।

এদিকে ট্রাম্প গত এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইসরাইল তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাপ দেয়নি। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি কঠোর অবস্থান নেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। তবে জো কেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং গোয়েন্দা তথ্য কতটা গুরুত্ব পেয়েছিল।