নকআউটের লড়াইয়ে মুখোমুখি সুইডেন-তিউনিসিয়া, তিন পয়েন্টের বিকল্প নেই

মেক্সিকোর গুয়াদালুপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ‘গ্রুপ এফ’-এর গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই। সোমবার সকাল ৮টায় এস্তাদিও মনটেরি (বিবিভিএ স্টেডিয়াম)-এ মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইডেন ও আফ্রিকার ‘কার্থেজের ঈগল’খ্যাত তিউনিসিয়া। নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ একই গ্রুপে থাকায় নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণ ছন্দে রয়েছে সুইডেন। আধুনিক ৩-৪-২-১ ফরমেশনে খেলতে অভ্যস্ত দলটি বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি দ্রুত প্রতিআক্রমণ গড়ে তুলতে সক্ষম। তবে সুইডেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেসের জুটি বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবলে অন্যতম আলোচিত। বিশেষ করে গিওকেরেসের সাম্প্রতিক গোল করার ধারাবাহিকতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, নিজেদের সপ্তম বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া তিউনিসিয়া এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা হান্নিবাল মেজব্রি। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হলে মাঝমাঠে তার নেতৃত্ব ও সৃজনশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের রক্ষণভাগ। সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার দলটির আত্মবিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। সুইডেনের শক্তিশালী ও শারীরিক ফুটবলের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার ডিফেন্স কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারে, সেটিই হতে পারে ম্যাচের অন্যতম নির্ধারক বিষয়।

কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে সুইডেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই এর অনিশ্চয়তা। তিউনিসিয়া যদি সংগঠিত রক্ষণভাগ গড়ে তুলে প্রতিআক্রমণ থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে গ্রুপ এফ-এর সমীকরণ বদলে যেতে পারে মুহূর্তেই।

সব মিলিয়ে, নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে দুই দলের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই।