ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে নকআউট পর্বের সমীকরণ। এরই মধ্যে সাতটি দলের বিশ্বকাপ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, পানামা, উজবেকিস্তান ও ইরাকের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আলোচনায় ছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হাইতি। তবে প্রত্যাবর্তনের আসরটি সুখকর হয়নি তাদের জন্য। মরক্কোর বিপক্ষে সাহসী লড়াই করেও ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয় দলটি। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই হারায় কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিতে হয়েছে হাইতিকে।
ইউরোপের শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তুরস্কও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতার অভাবে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের। একই পরিণতি হয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধি তিউনিসিয়ারও। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেললেও প্রয়োজনীয় ফল নিজেদের পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
এশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হতাশার নাম জর্ডান ও উজবেকিস্তান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলই আন্তর্জাতিক ফুটবলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে গ্রুপপর্বেই শেষ হয়েছে তাদের যাত্রা।
অন্যদিকে, দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পানামা কয়েকটি ম্যাচে লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিলেও ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজয়ের পর বিদায় নিশ্চিত করে। ইরাকও শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে সংগ্রাম করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নকআউট পর্বের টিকিট অধরাই থেকে যায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটির জন্য।
গ্রুপপর্বের খেলা এখনও বাকি রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রুপে। ফলে সামনে আরও কিছু দলের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া দলের তালিকায় নাম লিখিয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, পানামা, উজবেকিস্তান ও ইরাক।
