লন্ডনের চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে আন্ডারগ্রাউন্ড রেলব্যবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এয়ার কন্ডিশন্ড) ট্রেনের ঘাটতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও অর্থায়নের সংকটের কারণে রাজধানীর গভীর টানেলভিত্তিক (ডিপ-লেভেল) অনেক লাইনে যাত্রীদের আরও বহু বছর তীব্র গরম সহ্য করতে হতে পারে।
চলতি সপ্তাহে লন্ডনে বছরের তৃতীয় তাপপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গত জুনে, যা ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন, তখন সেন্ট্রাল লাইনসহ কয়েকটি ডিপ-লেভেল লাইনে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
ন্যাশনাল হিট রিস্ক কমিশনের চেয়ারম্যান এমা হাওয়ার্ড বয়েড বলেন, চরম তাপমাত্রার মধ্যে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালনার জন্য লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডকে আধুনিকায়ন করা এখন অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রায় ১৯০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চলাচল করছে। তবে এসব ট্রেন কেবল সারফেস বা অগভীর লাইনে, যেমন ডিস্ট্রিক্ট ও সার্কেল লাইনে পরিচালিত হয়। ২০১৭ সালের পর নতুন কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন বহরে যুক্ত হয়নি। এছাড়া ২০২২ সালে চালু হওয়া এলিজাবেথ লাইনের ট্রেনগুলোতেও এয়ার কন্ডিশনিং রয়েছে, যদিও সেটি লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের অংশ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ-লেভেল টানেলগুলোতে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা চালু করা দীর্ঘদিন ধরেই বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। ১৮৯০-এর দশকে নির্মিত এসব সংকীর্ণ টানেলে ট্রেনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রচলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা কঠিন। এছাড়া প্রতিদিন শত শত ট্রেন চলাচলের ফলে তৈরি হওয়া ‘পিস্টন ইফেক্ট’-এর কারণে টানেলের আশপাশের মাটি উষ্ণ হয়ে যায়, যা ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই পরিস্থিতিতে পিকাডিলি লাইন প্রথম ডিপ-লেভেল লাইন হিসেবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালের পুরোনো ট্রেনের পরিবর্তে জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স নির্মিত নতুন ট্রেনগুলো চলতি বছরের শেষ দিকে যাত্রী পরিবহন শুরু করার কথা রয়েছে। আধুনিক ও আকারে ছোট এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট ট্রেনের নিচে স্থাপন করা হয়েছে এবং নতুন নকশায় চাকার সংখ্যা কমিয়ে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় নতুন ট্রেন চালুর সময়সূচি এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পরিবর্তে এখন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে এসব ট্রেন যাত্রী পরিবহনে নামার কথা।
লন্ডন ট্রাভেলওয়াচ জানিয়েছে, পিকাডিলি লাইনের নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন দ্রুত চালু হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংস্থাটি লন্ডনের গণপরিবহনে আরও ব্যাপকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) বেকারলু, সেন্ট্রাল এবং ওয়াটারলু অ্যান্ড সিটি লাইনের জন্যও নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন কেনার পরিকল্পনা করেছে। তবে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, নর্দার্ন ও জুবিলি লাইনের বর্তমান ট্রেনগুলো পরিবর্তনেরও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পিকাডিলি লাইনে নতুন ট্রেন চালু হলেও লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের পুরো নেটওয়ার্কে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চালু হতে আরও কয়েক দশক সময় লেগে যেতে পারে।
Source: The Financial Times
