দীর্ঘ সাংগঠনিক অধ্যায়ের ইতি টেনে ফেসবুকে বিদায়বার্তা; রাজনৈতিক মহলে প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত বলেই ধারণা ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।”
তার এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১ মে ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকেই ছাত্রশিবিরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল।
এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে দলের মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা হবে নাকি দলগুলো পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
যদিও এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নিজস্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে ছাত্রশিবির থেকে সাদিক কায়েমের আনুষ্ঠানিক বিদায়কে অনেকেই তার নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জামায়াতে ইসলামী যদি ঢাকা দক্ষিণে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে চায়, তাহলে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি।
সাদিক কায়েম বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিষয়টি দলীয় ঘোষণার আগ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
