এমসি কলেজ গণধর্ষণ মামলার রায়: একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন, চারজন খালাস

প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর রায় ঘোষণা; ২৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএসহ বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া চারজন হলেন আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ভুক্তভোগী তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে কয়েকজন যুবক। পরে তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুইজনের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হলে মোট আটজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম

ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের মিল পাওয়া গেছে।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।