ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত এই আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ে একাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫০ জন ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছুটির দিন হওয়ায় ভবনে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নিজেদের ঘরে অবস্থান করছিলেন।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৬ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভবনের ভেতরে আটকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেই স্বজন ও উদ্ধারকারীদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় বিধানসভা সদস্য নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনাকবলিত ভবনের পাশের অন্যান্য ভবনগুলোও দ্রুত খালি করে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও তদন্ত
‘হোস্টেল ডেইজ’ নামের এই ভবনটির নিচে নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানা গেছে। প্রায় ৫০ বছর পুরনো এই ভবনটির বেজমেন্টে অতিরিক্ত আয়ের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিতভাবে খোদাই ও সম্প্রসারণের কাজ করছিল ইজারাদাররা। এতে করে ভবনের উপরের অংশ ভারী হলেও নিচের মূল মূলভিত্তি (পিলার) দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে।
পুলিশ ঘটনার পর থেকেই ভবনের মালিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (NSUI) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার এমন মারাত্মক অবহেলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সূত্র বিবিসি
