দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনের প্রথম দিনে এই টার্মিনাল ব্যবহার করে মোট ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি ও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের (২০২৭) মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সংবাদ সম্মেলনে টার্মিনাল পরিচালন সংক্রান্ত রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এই টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত মোট আয়ের ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং’ সেবার ৫০ শতাংশ পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট সংসদে কথা বলতে গিয়ে সিভিল এভিয়েশনের বর্তমান অব্যবস্থা ও পূর্বের অসম্পূর্ণ কাজের সমালোচনা করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকার মূল অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ না করেই তাড়াহুড়ো করে শুধু একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল। টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর ও চালু করতে এখনো অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজন।”
প্রকল্পের পেছনের কথা:
প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয়: ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ৩য় টার্মিনাল নির্মাণের এই মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
অর্থায়ন: প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট অর্থ ঋণ হিসেবে জোগান দিয়েছে জাপানি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
পূর্ববর্তী বিভ্রান্তি: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বিগত সরকারের আমলে টার্মিনালটির ‘আংশিক উদ্বোধন’ করা হয়েছিল। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালুর মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।
