রানওয়ে ছাড়িয়ে সড়কে উঠে একাধিক গাড়িতে ধাক্কা, আগুনে পুড়ে যায় বিমান; আহত বেশ কয়েকজন, ব্যাহত ফ্লাইট চলাচল
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে পাশের সড়কে উঠে একাধিক যানবাহনে ধাক্কা দিয়েছে। এতে বিমানটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।
অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় বিমান
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের কার্গো বিমান। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল।
বিমানটি মিয়ামি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছেড়ে বাইরে চলে যায়। পরে পাশের সড়কে থাকা একাধিক গাড়িতে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের পরপরই বিমানে আগুন ধরে যায়।
৬০টির বেশি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউর ৬০টিরও বেশি ইউনিট।
উদ্ধারকারীরা বিমান ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালান। আহতদের দ্রুত স্থানীয় ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বন্ধ বিমানবন্দর, বাতিল ও বিলম্বিত বহু ফ্লাইট
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর ফলে বিমানবন্দরজুড়ে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দেয়। মিয়ামিগামী এবং মিয়ামি থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা বহু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হয়েছে।
যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত
দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)।
বিমানটির ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অবতরণের সময় বিমানের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না কিংবা অন্য কোনো কারণে বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অ্যামাজনের কার্গো বিমান, পরিচালনায় ২১ এয়ার
অ্যামাজন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পড়া বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি ২১ এয়ার (21 Air) পরিচালনা করছিল এবং এটি অ্যামাজনের কার্গো পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে অ্যামাজন।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বিমান ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্র বিবিসি
