ম্যানচেস্টারে ইহুদি উপাসনালয়ের বাইরে হামলা: নিহত ২

বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরে ইহুদিদের একটি উপাসনালয়ের সামনে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটল ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্রতম দিন ইয়ম কিপ্পুরএর দিনে। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি প্রথমে গাড়ি চালিয়ে জনতার ওপর তেড়ে যান, এরপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া তৃতীয় ব্যক্তি ছিলেন সম্ভবত হামলাকারী নিজেই, এবং ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও মারা গেছেন।

তবে তার মৃত্যু এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ তার দেহে সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেছে, যা ঝুঁকি তৈরি করছে। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

এ ঘটনায় অন্তত আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ম্যানচেস্টারের উত্তরের এক উপশহর এলাকায়, হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রিগেশন সিনাগগের সামনে। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কেউ কেউ গাড়িচাপা এবং কেউ ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি দেখেছেন একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে জনতার দিকে যাচ্ছিলেন এবং এরপর এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করতে দেখেছেন।

ঘটনার পরপরই সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ‘প্লাটো’ শ্রেণিবিন্যাস, যা নির্দেশ করে এটি একটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ দিনটি ছিল ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র দিন, ‘ইয়ম কিপ্পুর’। এ ধরনের একটি হামলা ওই দিনে হওয়ায় তা আরও বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেন, “ক্রাম্পসলের একটি উপাসনালয়ে এই হামলার ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। ইয়ম কিপ্পুরে এমন একটি হামলা সত্যিই বিভৎস।”

তিনি আরও জানান, “আহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার সমবেদনা। এবং আমি জরুরি সেবায় নিয়োজিত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”

ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে, ইউরোপীয় নেতাদের এক সম্মেলনে। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরছেন এবং জরুরি ‘কোবরা’ মিটিং-এর নেতৃত্ব দেবেন, যেখানে জাতীয় সংকট মোকাবেলায় উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্টারমার জানান, দেশজুড়ে বিভিন্ন উপাসনালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। “আমরা আমাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব,” বলেন তিনি।

উপাসনালয়টির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ইয়ম কিপ্পুর উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের সূচি ছিল।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লেখেন, “ম্যানচেস্টারে একটি উপাসনালয়ে এমন বর্বর হামলার ঘটনায় আমি স্তব্ধ।”

তিনি জানান, তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেছেন। লন্ডনবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, মহানগর পুলিশ শহরের বিভিন্ন ইহুদি এলাকায় এবং উপাসনালয়ে টহল বাড়াচ্ছে।

রাজা চার্লস তৃতীয় এবং রানি ক্যামিলা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দিনে ম্যানচেস্টারে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা শুনে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।”

তারা আরও বলেন, “এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার সকল মানুষের প্রতি আমাদের হৃদয়ের প্রার্থনা রইল। এবং জরুরি বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”