হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের প্রভাব ও হামলা প্রতিহত করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাবেক ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি কমান্ডার টম শার্পে এই কৌশলকে “ব্লকেডের ভেতরে ব্লকেড” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে তেহরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেই চাপ কতটা হলে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শার্পে মনে করেন, ইরান ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের ক্ষতিও সহ্য করতে প্রস্তুত। দেশটির জন্য কোনো ব্যক্তি, অর্থনীতি বা অবকাঠামোর চেয়ে তাদের আদর্শিক অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইরান দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা বুঝে গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলা তাদের জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইরান যদি নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টোল আরোপ করে, তবে সেটি তাদের জন্য লাভজনকও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, আলোচনার টেবিলে বসে ইরান এই কৌশলগত সুবিধা সহজে ছেড়ে দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
