শেষবারের মতো আদালতে প্রিন্স হ্যারি? আবেগঘন সাক্ষ্যে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

নিউজ রিপোর্ট: ব্রিটিশ হাই কোর্টে আবেগঘন মুহূর্তে ভরা এক সাক্ষ্যে প্রিন্স হ্যারি ইঙ্গিত দিলেন, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এটি হয়তো তাঁর শেষবারের মতো সাক্ষ্য দেওয়া। বহু বছর ধরে চলা উচ্চপ্রোফাইল মামলাগুলোর অভিজ্ঞতাকে তিনি বর্ণনা করলেন “ভয়ংকর” ও মানসিকভাবে ক্ষয়কর হিসেবে।

অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় প্রায় দুই ঘণ্টার জেরার সময় প্রিন্স হ্যারি বলেন, সংবাদমাধ্যম বারবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেছে এবং অবৈধ উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে তাঁর পরিবারের ওপর। এক পর্যায়ে তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে যখন তিনি বলেন, “ওরা আমার স্ত্রীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।”

আদালতে হ্যারির আচরণ ছিল সংযত হলেও স্পষ্টতই আবেগপ্রবণ। প্রশ্নের জবাবে তিনি কখনো সংক্ষিপ্ত, কখনো তীক্ষ্ণ উত্তর দেন। বিচারক মি. জাস্টিস নিকলিন একসময় তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তিতর্কে না গিয়ে কেবল প্রশ্নের উত্তর দিতে। তবু হ্যারির বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনাস্থা।

হ্যারি দাবি করেন, টানা নজরদারি ও খবর ফাঁসের আশঙ্কা তাঁকে সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছিল এবং কাছের মানুষদের প্রতিও অবিশ্বাস তৈরি করেছিল। কিছু সাংবাদিক তাঁর বন্ধুমহলের অংশ ছিলেন—এমন ইঙ্গিত তিনি নাকচ করে দেন, এক পর্যায়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, “ভালোই তো।”

অন্যদিকে, ডেইলি মেইল গ্রুপের পক্ষে আইনজীবী অ্যান্টনি হোয়াইট ছিলেন শান্ত ও নিরাবেগ। তাঁর কৌশল ছিল আবেগ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। তিনি যুক্তি দেন, আলোচিত সংবাদগুলো বৈধভাবেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। আদালতে যেন আবেগ বনাম বিশ্লেষণের লড়াই চলছিল।

এই মামলার শুনানি আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবে। তবে হ্যারির দৃষ্টিতে, তিনি আদালতে তাঁর নৈতিক ক্ষোভ প্রকাশ করতে পেরেছেন এবং এমন কিছু বলেননি যা নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

আদালত ছাড়ার পর প্রিন্স হ্যারি বলেন, “আজ আমরা মেইল গ্রুপকে মনে করিয়ে দিয়েছি—কে কাঠগড়ায় এবং কেন।”

একসময় রাজপরিবারের কোনো সদস্যের আদালতে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেওয়া ছিল অকল্পনীয়। আজ, বহু বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক চাপের পর, প্রিন্স হ্যারির জন্য হয়তো এটি এক অধ্যায়ের শেষের ইঙ্গিত।