যুক্তরাজ্যে আজ পবিত্র শবে বরাত

যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৫তম দিন তথা ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে ‘মুক্তির রাত’ হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাজ্যে শবে বরাত শুরু হবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে।

ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। সে অর্থে শবে বরাত হলো ক্ষমা ও মুক্তির রাত, যাকে আরবি ভাষায় বলা হয় লাইলাতুল বরাআত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এটি বছরের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ রাত হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। বহু আলেমের মতে, এই রাতে মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং ক্ষমাপ্রার্থনার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়।

এই মহিমান্বিত রাতে মুসলমানরা অতীতের গুনাহের জন্য তওবা করেন, ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। মসজিদ ও ঘরে ঘরে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দরুদে মুখর থাকে পরিবেশ।

হাদিসে বর্ণিত আছে, ১৫ শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা আহ্বান করেন—

“কে আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করব। কে আছে রিজিক প্রার্থনাকারী, আমি তাকে রিজিক দেব।”

— (ইবনে মাজাহ)

তবে হাদিসের সনদের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, সামগ্রিকভাবে এই রাতকে আত্মসমালোচনা, তওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার উত্তম সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।

অনেক মুসলমান বিশ্বাস করেন, শবে বরাতে পরবর্তী এক বছরের তাকদির নির্ধারণ হয়। তাই এই রাতকে ঘিরে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে আত্মশুদ্ধির আহ্বান জোরালো হয়—হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার, সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং পারস্পরিক ক্ষমার সংস্কৃতি গড়ে তোলার শিক্ষা দেয় এই রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে দান-সাদকা করাকেও বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসাকে ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

শাবান মাস এমনিতেই রমজানের প্রস্তুতির সময়। নবী মুহাম্মদ (সা.) এই মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় অনেক মুসলমান শবে বরাতের পরদিন নফল রোজা রাখেন।