ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট পবিত্র আমানত, অযোগ্যকে ভোট মিথ্যা সাক্ষ্যের শামিল

গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ভোটকে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মত দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট একটি পবিত্র আমানত এবং সাক্ষ্যদান, যার সঙ্গে ইহকাল ও পরকালের জবাবদিহি সরাসরি জড়িত।

তাদের মতে, শরিয়তের পরিভাষায় কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, ওই ব্যক্তি সৎ, যোগ্য ও আমানতদার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা ও মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে বিরত থাকো।’ (সুরা হজ : ৩০)। সুতরাং জেনেশুনে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে শিরকের পর বড় কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নেতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। ভোটারদের দায়িত্ব হলো যোগ্য ব্যক্তির হাতে সেই আমানত তুলে দেওয়া। এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতগুলো তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা : ৫৮)।

স্বজনপ্রীতি, দলীয় আবেগ বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া স্পষ্টভাবে আমানতের খেয়ানত বলে উল্লেখ করেন আলেমরা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে নেতৃত্ব ন্যস্ত হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।’ (বুখারি)। এতে বোঝা যায়, অযোগ্য নেতৃত্ব সমাজ ধ্বংসের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া ভোটকে এক ধরনের সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করে কোরআনের আয়াত তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের সুপারিশ করবে, সে তার সওয়াবের অংশ পাবে। আর যে মন্দকাজের সুপারিশ করবে, সে তার পাপের বোঝা বহন করবে।’ (সুরা নিসা : ৮৫)।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি সৎ ও কল্যাণমূলক কাজ করেন, তবে তাকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিরাও সেই সওয়াবের অংশ পাবেন। আর প্রতিনিধি যদি দুর্নীতি, জুলুম বা অন্যায় করেন, তবে তাকে ক্ষমতায় বসানোর কারণে ভোটাররাও সেই পাপের অংশীদার হবেন।

তাই প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও আমানতদারিতা যাচাই না করে ভোট দেওয়া ইহকাল ও পরকাল—উভয় জগতেই ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।