ইরানে বিমান হামলার সিদ্ধান্তে দূতদের মূল্যায়নই নির্ধারক: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মূল্যায়নের ওপর। তারা মনে করলে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা ত্যাগের চুক্তি নিয়ে গড়িমসি করছে, সেক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাব আসার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। এ সপ্তাহেই জেনেভায় চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন উইটকফ ও কুশনার। তাদের মূল্যায়নই ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে। 

সূত্রগুলো বলছে, কোনো চুক্তি না হলে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সীমিত হামলার বিকল্প বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। তাতেও ফল না এলে বৃহৎ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তনের পথও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়া মূল দলের সদস্য উইটকফ এবং সংশ্লিষ্ট সব বৈঠকেই তিনি অংশ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সামরিক বিকল্প নিয়ে একাধিক ব্রিফিং পেয়েছেন, যার মধ্যে হোয়াইট হাউস সিচুয়েশন রুমে সর্বশেষ বৈঠকও রয়েছে।

ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।

তবে সামরিক হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন জেনারেল কেইন ও ভ্যান্স। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমিত মজুত এবং সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়েছিল—যা ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার।

এদিকে ইরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে এবার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি বলেছেন, প্রয়োজনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

পেন্টাগনের ভেতরেও হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তাদের মতে, জেনারেল কেইন অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উদ্বেগ বেশি জোরালোভাবে তুললেও ট্রাম্পকে ব্রিফ করার সময় তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছেন, যাতে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ছাপ না পড়ে।