ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আপত্তি জানিয়েছেন—এমন সংবাদকে “সম্পূর্ণ ভুল” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই ইরানকে পরাজিত করতে পারবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনে ইরানে হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি—যেমন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, গোলাবারুদের ঘাটতি এবং মিত্রদের সীমিত সমর্থন—নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এসব প্রতিবেদনকে “১০০ শতাংশ ভুল” আখ্যা দেন।
ট্রাম্প লেখেন, জেনারেল কেইন যুদ্ধ দেখতে চান না—সবার মতোই—কিন্তু যদি সামরিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তার বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয়ী হবে। তিনি বলেন, কেইন কখনো যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেননি বা সীমিত হামলার বিরুদ্ধেও কথা বলেননি; বরং তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি নেতৃত্ব দেবেন।
মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে গোলাবারুদের ঘাটতি ও মিত্রদেশগুলোর অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কেইন। একই ধরনের সতর্কতার কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসও। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের হতাহতের আশঙ্কা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
এদিকে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও সামরিক হামলা থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক আলোচনাকে সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এসব প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি চুক্তিকে প্রাধান্য দিতে চান; কিন্তু সমঝোতা না হলে ইরান ও তার জনগণের জন্য তা “খুব খারাপ দিন” বয়ে আনবে। উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন।
