\n\n

সিলেট শ্রীমঙ্গলে বিরল নাগলিঙ্গম বৃক্ষের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল-এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুক্ত হয়েছে এক নতুন আকর্ষণ—বিরল নাগলিঙ্গম বৃক্ষ। গাছের কাণ্ডজুড়ে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা দৃষ্টিনন্দন ফুল, মনমাতানো সুগন্ধ এবং ব্যতিক্রমী গঠন প্রতিদিনই টানছে অসংখ্য দর্শনার্থীকে।

জেলার অন্তত দুটি স্থানে বর্তমানে এই গাছে ফুল ও ফল ধরেছে। এর একটি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে এবং অন্যটি মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা দেওয়ান গউছউদ্দিন আহমদের বাড়িতে। উভয় স্থানেই গাছগুলো এখন ফুলে-ফলে ভরপুর।

নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis। প্রায় তিন হাজার বছর আগে আমাজন অরণ্যে এর সন্ধান পাওয়া যায়। ‘ক্যানন বল ট্রি’ নামেও পরিচিত এই গাছ ভারতে ‘শিব কামান’ নামে সুপরিচিত।

এই গাছের সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো—ফুল ও ফল শাখা-প্রশাখায় নয়, সরাসরি কাণ্ডে জন্মায়। গাঢ় গোলাপি ও হালকা হলুদের মিশেলে গড়া ফুলগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি এর সুগন্ধে গোলাপ ও পদ্মের ঘ্রাণের মিশ্রণ পাওয়া যায়। ফুলের পরাগচক্র সাপের ফণার মতো হওয়ায় এর রহস্যময়তা আরও বাড়ে।

ইনস্টিটিউটের পুকুরপাড়ে থাকা বিশাল গাছটি বর্তমানে ফুলে-ফলে ভরপুর। সকাল-বিকাল পুরো এলাকা ভরে উঠছে এর মাদকতাময় সুবাসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা চা বাগানের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই বিরল বৃক্ষ দেখেও মুগ্ধ হচ্ছেন।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন এই গাছের চারা রোপণ করেন। তিন দশকে এটি বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে।

অন্যদিকে শহরশ্রী গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় থাকা গাছটিও এখন ফুলে ভরপুর। গাছের গোড়া থেকে কাণ্ডজুড়ে ফুটে থাকা ফুলে প্রায় পাতাই দেখা যায় না। কুঁড়ি থেকে পূর্ণ প্রস্ফুটন—সব ধাপেই রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের মতে, এমন দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে অনেকেই এই গাছের সামনে ছবি তুলছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগলিঙ্গম বর্তমানে বিশ্বে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৃক্ষ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং চারা রোপণের ১২–১৪ বছর পর ফুল ফোটা শুরু হয়। গাছের কাণ্ড ভেদ করে বের হওয়া মঞ্জুরিতে একসঙ্গে ১০–২০টি ফুল ফোটে—যা প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়।

প্রকৃতির এই বিরল উপহার শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও ঔষধি গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে, ফলে এটি এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।