টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বেথনাল গ্রীন ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ। একইসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ল্যান্সবারি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক কেবিনেট মেম্বার ইকবাল হোসেন। এছাড়া ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাউন্সিলার মাইয়ুম মিয়া তালুকদার।
বুধবার সন্ধ্যায় কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত নতুন কাউন্সিলের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এর আগে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাহী মেয়র হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান এবং নির্বাচিত হন ৪৫ জন কাউন্সিলর।
বিদায়ী স্পিকার কাউন্সিলর সুলুক আহমদ ২০২৬-২৭ পৌর বছরের জন্য নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।সভায় নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান নবনির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,
“টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ও ফার্স্ট সিটিজেন হিসেবে কাউন্সিলর মুশতাক আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন নির্বাচিত হওয়ায় তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। নতুন ক্যাবিনেট সদস্যদেরও স্বাগত জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতৃত্বদানকারী টিম টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করবে এবং এই বরোকে সবার জন্য আরও উন্নত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত স্পিকার ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর চ্যারিটি হিসেবে দুটি সংগঠনকে সহায়তা করবেন। এর একটি হলো ‘মারি সেলেস্টে সামারিটান সোসাইটি অব দ্য রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল’, যা রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা ও আবাসন সুবিধা প্রদান করে। অন্যটি ‘ভ্যালান্স কমিউনিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন’, যারা কমিউনিটিতে খেলাধুলার প্রসার ও প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সংগ্রাম ও সাফল্যের অনন্য উদাহরণ
বাংলাদেশের সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের খতিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ। ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে এসে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযুদ্ধ শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল কিচেন পোর্টার হিসেবে। পরে তিনি নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘ ১২ বছর ক্যাটারিং খাতে সফলভাবে কাজ করেন।
৩২ বছর বয়সে তিনি নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে অধ্যয়নকালে “স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ২:১ গ্রেডে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে অভিষিক্ত হন।
বর্তমানে তিনি ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। সিভিল, এমপ্লয়মেন্ট ও ইমিগ্রেশন আইনে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া তিনি পুলিশ স্টেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও কাজ করেছেন।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে হেলথ অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রায় ১৫ বছর চিকিৎসাসেবা গ্রহীতাদের কল্যাণে কাজ করেছেন।
কাউন্সিলে তিনি জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন পরিবারমুখী মানুষ। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে।
